গর্ভধারনের ৩ মাসে যে কাজগুলো ভুলেও করবেন না।

 

গর্ভধারনের ৩ মাসে যে কাজগুলো ভুলেও করবেন না।

আপনাকে অভিনন্দন। আপনি এখন ১-৩ মাসের অন্তঃসত্বা বা গর্ভবতী। অনেকটা আনন্দ ও সন্তান প্রাপ্তির প্রত্যাশা পুরোনের প্রশান্তিতে রয়েছেন। সাথেই অজানা আতঙ্ক ও ভয় আপনাকে অস্থির করে তুলছে।

আজকের এই পোস্টটি অবশ্যই আপনাকে আপনার কাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে । আপনি জানতে পাবেন কি খাবেন, কি খাবেননা, কোন কাজটি করবেন , কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন।

                                                 


যে কাজ ভুলেও করা যাবেনাঃ

গ্রামের নারীরা সাধারনত টিউবওয়েল থেকে পানি তুলে। আপনাকে জানতে হবে যে, আপনার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে তা কেবল মাত্র একটি রক্তপিন্ড মাত্র। অনেকটা ডিমের কুসুমের মত। আর ডিমকে অতিরিক্ত ঝাঁকালে কুসুম আউলে যায়। একই উদাহরণ আপনার জন্যও প্রযোজ্য। যেসব কাজ করলে আপনার পেট ও কোমরে বেশী চাপ সৃষ্টি করে,সেই সব কাজ থেকে বিরত থাকুন। যেমনঃ টিউবওয়েল থেকে পানি তুলা, ভারি জিনিস চাঁড়া-চাঁড়ি করা, দৌড়-ঝাপ করা, চুলা জ্বালানোর সময় ধোঁয়া গ্রহন, তরকারি কোষানোর সময় অতিরিক্ত হাঁচি দেওয়া, ধুমপান করা, ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত ঔষুধ সেবন করা।

সমস্যা ও সমাধাণ-

১. জ্বর ও মাথাব্যাথাঃ

আপনার যে কোন শারীরিক সমস্যাই হোকনা কেন, নিজে থেকে কোনো প্রকার ঔষুধ সেবন করবেন না। কারন এতে আপনার গর্ভপাত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। তাছাড়াও শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মেধা বিকাশে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

২. বমি ও অরুচিঃ

খাবারের প্রতি অরুচি অথবা বিশেষ কোনো খাবারের প্রতি আকর্ষন যেমন- টক,মিষ্টি অথবা অন্য কোন খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। কিনবা আপনি কোনো খাবার খেলে তা বমি করে ফেলছেন। এটার কারন হল আপনার শারীরিক পরিবর্তন। আপনার শরীরে বিভিন্ন প্রকার তরল ও হরমোনের কাযর্কারীতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এসব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সবার সমস্যা একই রকম না।

আপনাকে যা করতে হবে-

তরল খাবার গ্রহন কমিয়ে দিন। একটু একটু করে একাধিক বার খাবার খাবেন। কোনকিছু খাওয়ার সাথে সাথে শুবেননা। বরং একটু হাঁটাহাঁটি করার পর শুবেন। সকালের নাস্তায় শুকনা খাবার রাখুন যেমনঃ রুটি, চিঁড়া, ব্রেড-জেলী, ডিম। আপনার রুটিন ঠিক করুন। চা,কফি কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. মানুষিক প্রশান্তিঃ

সবসময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন। অবশ্য এই ক্ষেত্রে পবিবারের অন্য সদস্যদের ভুমিকাই প্রধান । তাই আপনি সকলের সাথে কথা বলুন।বিশেষ করে আপনার প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান।

৪. নেশা হতে বিরত থাকুনঃ

ধুমপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকুন। আপনার স্বামীকেও  ধুমপান করা থেকে বিরত রাখুন। কারন বিড়ি বা সিকারেটির ধোঁয়া আপনার জন্য ধুমপান করার মতই বিপদজনক।

৫. ব্যয়াম করুনঃ

একটু হাটাহাটি আপনার শরীরিরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তাই বেশী শুয়ে না থেকে হাটুন। এটা আপনার জন্য যেমন উপকারী তেমন আপনা অনাগত সন্তানের জন্যও।

 আপনার শরীর ও গর্ভের সন্তান আপনারেই সম্পদ। তাই নিজের সম্পদ নিজেকেই আগলে রাখতে হবে।

ধন্যবাদ।।

পূর্ববতী >প্রেগন্যান্সি চেক করার নিয়ম,  গর্ভধারনের প্রাথমিক লক্ষণ,  আপনি কি গর্ভধারনের জন্য প্রস্তুত

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post