সৃষ্টির কথা

 

বাইবেলঃ আদিপুস্তকঃ ১ অধ্যায় ১-২৫

সৃষ্টির কথা

সৃষ্টির কথা

১ আদিতে ঈশ্বর মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। ২ পৃথিবীর উপরটা তখনও কোন বিশেষ আকার পায় নি, আর তার মধ্যে জীবন্ত কিছুই ছিলনা; তার উপরে ছিল অন্ধকারে ঢাকা গভীর জল। ঈশ্বরের আত্না সেই জলের উপরে চলাফেরা চলাফেরা করছিলেন।

৩-৫ ঈশ্বর বললেন,“আলো হোক”। আর তাতে আলো হল। তিনি দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে। তিনি অন্ধকার থেকে আলোকে আলাদা করে আলোর নাম দিলেন দিন আর অন্ধকারের নাম দিলেন রাত। এভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল, আর সেটাই ছিল প্র্রথম দিন। ৬ তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলের জলের মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হোক, আর তাতে জল দু’ভাগ হয়ে যাক।” ৭ এইভাবে ঈশ্বর জলের মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করলেন এবং নীচের জল ও উপরের জল আলাদা করলেন। তাতে নীচের জল ও উপরের জল আলাদা হয়ে গেল। ৮ ঈশ্বর যে ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি করেছিলেন তার নাম দিলেন আকাশ।এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল , আর সেটাই ছিল দ্বিতীয় দিন।

 ৯ এর পর ঈশ্বর বললেন,“ আকাশের নীচের সব জল এক জায়গায় জমা হোক এবং শুকনা জায়গা দেখা দিক।” আর তা-ই হল। ১০ ঈশ্বর সেই শুকনা জায়গার নাম দিলেন ভূমি , আর সেই জমা হওয়া জলের নাম দিলেন সমুদ্র। ঈশ্বর দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে।

১১ তারপর ঈশ্বর বললেন,“ভূমির উপরে ঘাস গজিয়ে উঠুক; আর এমন সব শস্য ও শাক-সবজীর গাছ হোক যাদের নিজের নিজের বীজ থাকবে। ভূমির উপর বিভিন্ন জাতের ফলের গাছও গজিয়ে উঠুক যেগুলোতে তাদের নিজের নিজের ফল ধরবে; আর সেই সব ফলের মধ্যে থাকবে তাদের নিজের নিজের বীজ। ১২ ভূমির মধ্যে ঘাস, নিজের বীজ আছে এমন সব বিভিন্ন জাতের শস্য ও শাক-সবজীর গাছ এবং বিভিন্ন জাতের ফলের গাছের জন্ম হল; আর সেই সব ফলের মধ্যে নিজেদের বীজ ছিল। ঈশ্বর দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে।১৩ এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল , আর সেটাই ছিল তৃতীয় দিন।

১৪ তারপর ঈশ্বর বললেন,“ আকাশের মধ্যে আলো দেয় এমন সব কিছুর দেখা দিক, আর তা রাত থেকে দিনকে আলাদা করুক। সেগুলো আলাদা আলাদা দিন, ঋতু আর বছরের জন্য চিহ্নিত হয়ে থাকুক।১৫ আকাশ থেকে সেগুলো পৃথিবীর উপর আলো দিক।” আর তা-ই হল। ১৬ ঈশ্বর দু’টো বড় আলো তৈরী করলেন। তাদের মধ্যে বড়টিকে দিনের উপর রাজত্ব করাবার জন্য, আর ছোটটিকে রাতের উপর রাজত্ব করবার জন্য তৈরি করলেন। ১৭ তিনি সে গুলোকে আকাশের মধ্যে স্থাপন করলেন যাতে সেগুলো পৃথিবীর উপর আলো দেয়, ১৮ দিন ও রাতের উপর রাজত্ব করে আর অন্ধকার থেকে আলোকে আলাদা করে রাখে। ঈশ্বর দেখলেন,“ তা চমৎকার হয়েছে। ১৯ এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল , আর সেটাই ছিল চতুর্থ দিন।

২০ তারপর ঈশ্বর বললেন,“জল বিভিন্ন জীবন্ত প্রাণীর ঝাঁকে ভরে উঠুক, আর পৃথিবীর উপরে আকাশের মধ্যে বিভিন্ন পাখী উড়ে বেড়াক।” ২১ এইভাবে ঈশ্বর সমুদ্রের বড় বড় প্রাণী এবং জলের মধ্যে ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন জাতের জীবন্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতের পাখিও সৃষ্টি করলেন। তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ জাত অনুসারে বংশ বৃদ্ধি করবার ক্ষমতা রইল। ঈশ্বর দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে। ২২ ঈশ্বর তাদের এই বলে আশীর্বাদ করলেন, “ বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় পূর্ণ হয়ে তোমরা নিজেদের বংশ বাড়িয়ে তোলো, আর তা দিয়ে সমুদ্র পূর্ণ কর।পৃথিবীর উপরে পাখিরাও নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলুক।” ২৩ এইভাবে সন্ধ্যাও গেল সকালও গেল , আর সেটাই ছিল পঞ্চম দিন।

২৪ তারপর ঈশ্বর বললেন,“ মাটি থেকে এমন সব জীবন্ত প্রাণীর জন্ম হোক যাদের নিজের নিজের জাতকে বাড়িয়ে তুলবার ক্ষমতা থাকবে। তাদের মধ্যে গৃহপালিত, বন্য ও বুকে-হাঁটা প্রাণী থাকুক।” আর তা-ই হল। ২৫ ঈশ্বর পৃথিবীর সব রকম বন্য, গৃহপালিত এবং বুকে-হাঁটা প্রাণী সৃষ্টি করলেন। এদের সকলেরই নিজের নিজের জাতকে বাড়িয়ে তুলবার ক্ষমতা রইল। ঈশ্বর দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে।

 

পরবর্তী> সৃষ্টির প্রথম মানুষ

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post